বহু গুণে ভরপুর তেলাকুচা পাতা (Benefits of Ivy Gourd)

তেলাকুচার পরিচিতি: গ্রাম অঞ্চলে অথবা শহরে, তেলাকুচা অনেকের কাছেই পরিচিত একটি গাছ। এটি একটি লতানো উদ্ভিদ। যার পাতা ও কাণ্ড গাঢ় সবুজ রঙের, ফুল সাদা ও ফল পেকে গেলে টকটকে লাল হয়ে যায়। তেলাকুচা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। পঞ্চভূজ আকারের পাতা গজানো এই গাছটি অন্য গাছকে জড়িয়ে বেড়ে ওঠে।

তেলাকুচা সাধারণত বন-জঙ্গলে, রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির আশেপাশে জন্মায়। এর টকটকে লাল ফল দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। তবে এই গাছটি বেশ অবহেলিত। যত্ন করে এই গাছ খুব কম সংখ্যক মানুষই লাগিয়ে থাকে। তবে জানলে অবাক হবেন, অবহেলিত এ লতা জাতীয় গাছটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তেলাকুচায় প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন আছে। যা আমাদের মারাত্মক অনেক রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে।

তেলাকুচার বৈজ্ঞানিক নাম: Coccinia Grandis

আসুন জেনে নেই কিকি পুষ্টি উপাদান আছে তেলাকুচা পাতার মধ্যে (Nutritional Facts of Ivy Gourd)

ভিটামিন সি এর ফলগুলি সক্রিয় উপাদানগুলি ধারণ করে, যেমন-ট্যারাক্সেরন, ট্যাকেরেল, অ্যামিরান, লুপোল এবং গ্লাইকোসাইড কাকুরবিটাকান বি। কোমল সবুজ ফলের পুষ্টিগুণ এবং প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার এবং বিটা ক্যারোটিনের ভাল উত্স, ভিটামিন-এ।

তেলাকুচা পাতার ঔষধি গুন (Herbal Benefits of Ivy Gourd)
তেলাকুচা পাতার ঔষধি গুন (Herbal Benefits of Ivy Gourd)

তেলাকুচা পাতার ঔষধি গুনাগুনঃ

এখন আমরা জানবো তেলাকুচা পাতার কি কি ঔষধি গুনাগুন রয়েছে, এবং তেলাকুচা পাতায় কি কি রোগের উপকারিতা রয়েছে।

ডায়াবেটিস:

মানবদেহে যখন  ডায়াবেটিস বাসা বাঁধে। যা ধীরে ধীরে আমাদের শরীরকে অকেজ করে দিতে থাকে। তাই যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের অবশ্যই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। এক্ষেত্রে তেলাকুচা গাছ খুবই কার্যকরী। তেলাকুচার কান্ডসহ পাতা ছেঁচে রস তৈরি করে নিন। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে এই রস আধাকাপ পরিমাণ পান করুন। এছাড়াও তেলাকুচার পাতা রান্না করে খেলে ডায়াবেটিস রোগে উপকার হয়।

জন্ডিস বা কামলা:

জন্ডিস হলে  আজকাল অনেকেই ভয় পেয়ে যান। তবে ভয় না পেয়ে ভরসা রাখুন এই তেলাকুচা গাছের উপর। যা খুব উপকারী। জন্ডিস সারাতে তেলাকুচার মূল ছেঁচে রস তৈরি করে নিন। এবার প্রতিদিন সকালে আধাকাপ পরিমাণ এই রস পান করুন। এতে উপকার পাবেন।

পা ফোলা রোগে:

ক্লিনিকে এমন অনেক রোগীর প্রায়ই আসেন যারা কিনা বলে থাকেন কিছুক্ষণ বসলেই পা ফুলে যায়। তাদের জন্য হতে পারে তেলাকুচা পাত পরম বন্ধু।

দীর্ঘ সময় গাড়িতে ভ্রমণ করা বা অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে তেলাকুচার মূল ও পাতা ছেঁচে এর রস ৩ থেকে ৪ চা চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে পান করুন। এতেই সমস্যার সমাধান মিলবে।

শ্বাসকষ্ট (হাঁপানি নয়):

অনেকেই শ্বাসকষ্টের স সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে বুকে সর্দি বা কাশি বসে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে। এর থেকে রক্ষা পেতে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে নিন। এবার ৩ থেকে ৪ চা চামচ পরিমাণ তিন থেকে সাত দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খান। শ্বাসকষ্টের সমস্যা মিটে যাবে। 

কাশি:

সব সময় খুশ খুশ কাসি একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার যারা এই সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এ তেলাকুচা পাতা বেশ উপকারী। যদি শ্লেস্মাকাশি হয় তবে শ্লেস্মা তরল করতে এটি বেশ কাজ করে। কাশির উপশমে ৩ থেকে ৪ চা চামচ তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে নিন। এবার এর সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খান। এতেই উপকার মিলবে।

শ্লেম্মাজ্বর:

শ্লেষ্মাজ্বর থেকে রক্ষা পেতে ৩ থেকে ৪ চা চামচ তেলাকুচার মূলও পাতার রস হালকা গরম করে নিন। এবার এটি ২ থেকে ৩ দিন সকাল ও বিকেলে খান। এক্ষেত্রে তেলাকচুর পাতা পাটায় বেটে রস করে নিতে হবে।

স্তনে দুধ স্বল্পতা:

সন্তান প্রসবের পর অনেক  মায়েদের স্তনে দুধ আসে না। আবার শরীর ফ্যাকাশেও হয়ে যায়। এ অবস্থা দেখা দিলে ১টি তেলাকুচা ফলের রস হালকা গরম করে মধু মিশিয়ে নিন। এবার এই রস পরিমাণ মতো সকাল ও বিকেল ১ সপ্তাহ খান। এতে স্তনে দুধের স্বল্পতা দূর হয়ে যাবে। 

ফোঁড়া ও ব্রণ:

ফোঁড়া ও ব্রণ সারাতে তেলাকুচা পাতা জাদুর মতো কাজ করে। তেলাকুচা পাতার রস বা পাতা ছেঁচে ফোঁড়া ও ব্রণে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এতে দ্রুত মুক্তি মিলবে।

আমাশয়:

 তার প্রায়ই আমাশয়  ভুগছেন হতে তারা। তেলাকুচার মূল ও পাতার রস ৩ থেকে ৪ চা চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খান। ৩ থেকে ৭ দিন নিয়ম করে এই রস পানেই উপসম মিলবে।  

অরুচিতে:

অনেকেরই সর্দিতে মুখে অরুচি হয়। এই অবস্থায় তেলাকুচার পাতা একটু সিদ্ধ করে পানিটা ফেলে দিতে হবে। এবার এটি ঘি দিয়ে শাকের মত রান্না করে নিন। গরম ভাতের সাথে খান রুচি আসবে।

প্রয়োজনীয় লেখাসমূহঃ

Leave a Comment

five × three =