জেনে নিন সজনে পাতার উপকারিতা – কেন খাবেন সজিনা?

আজকে আলোচনা করবো এমন একটি গাছ নিয়ে যেটি এমন গুণে ভরপুর। যার কারণে এই গাছটির নাম দেয়া হয়েছে অলৌকিক বা মিরাকেল ট্রি।

হ্যাঁ এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে আমি কোন গাছটির কথা বলছি। হ্যাঁ এটি সজনা, সজনে বা সজিনা গাছ।

তুলে ধরব বহু পুষ্টিগুণসম্পন্ন এই গাছটি। প্রথমে আমি এই গাছটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিচ্ছি। এরপর যাব বিস্তারিত আলোচনায়।

সজনের পরিচিতিঃ

  • বাংলা নামঃ সাজনা বা সজিনা।
  • ইংরেজি নামঃ Drumstick, একে Moringa-ও বলে।
  • বৈজ্ঞানিক নামঃ Moringa Alifera Lam
  • পরিবারঃ Moringaccae
  • ইউনানী নামঃ সাহানজনা
  •  আয়ুর্বেদ নামঃ শীগরু

সজনের ব্যবহৃত অংশঃ

সাজনা গাছের যেসব অংশে ব্যবহৃত হয় যেমনঃ পাতা, ফুল, ফল, মূল, ছাল বা বাকল ও আঠা। এক কথায় সম্পূর্ণ গাছ।

সজনে বৃক্ষ পরিচিতিঃ

সজনে মাঝারি আকারের একটি পত্রঝরা বৃক্ষ। উচ্চতায় সাধারণত ৭ থেকে ১০ মিটার বা এর বেশি লম্বা হতে পারে মাটির উর্বরতায়। গাছের ছাল বা বাকল, কাণ্ড নরম এবং পরোক্ষ ৬ থেকে ৯ জোড়া বিপরীতমুখী ডিম্বাকৃতির পাতা দেখা যায়। ফেব্রুয়ারি মার্চ মাসে সজিনা গাছে ফুল হয়।

সজিনার প্রাপ্তিস্থানঃ

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে ও পাকিস্তান সজিনার আদি নিবাস। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর জন্মে। ইতালি, গ্রিস, মিশর, ফিলিপিন, সুদান পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা এবং আমেরিকা সজিনার ব্যাপক চাষ আবাদ হয়।

সজনে গাছের প্রকারভেদঃ

বর্ণভেদে সজিনা তিন প্রকার যথাঃ

  • শ্বেত সজিনা/কৃষ্ণ গন্ধা
  • রক্ত সজিনা/ মধু মিত্র ও
  • নীল সজিনা/কৃষ্ণ সজিনা

সজিনার মধ্যে কৃষ্ণ সজিনা বনৌষধি হিসেবে বেশ ফলপ্রদ। তবে বারো মাস যেটা পাওয়া যায় এ প্রজাতি একই।

সজনে পাতার উপকারিতা
সজনে পাতা (Drumstick/Moringa Leaves)

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে সজিনার উপকারিতার প্রমাণ

এই গাছ এতটাই গুণসম্পন্ন তাই এর উল্লেখ রয়েছে অষ্টাদশ পর্ব মহাভারত অথর্ববেদে। অথর্ববেদের সজিনার কথামো সম্পর্কে বলা হয়েছে যে সজিনা দেহ শত্রু বিনাশ সাধন করে। সজিনার কথা পাওয়া যায় চরক সুশ্রুত সংহিতায়। এবং ভগবত ও বঙ্গ সেন চক্রদত্ত গ্রন্থে এর নানাবিধ ব্যবহার উল্লেখ রয়েছে।

সজিনার উপকারিতাঃ

অ্যানিমিয়া, ক্যান্সার, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, জয়েন্ট পেইন, কিডনি পাথর, রাতকানা বা চোখের রোগে, মায়ের দুধের স্বল্পতায় ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময় ব্যবহৃত এই গাছ।

বিভিন্ন রোগে সজনে পাতার ব্যবহার নিয়মঃ

  • রক্তস্বল্পতায় সজনে ডাটার কাজ তিন থেকে সাত দিন ব্যবহার করতে হয় সকাল-বিকাল দুবার।
  • জলবসন্ত গুটিবসন্তে সজনে ডাঁটা ও ফুল বেশ উপকারী।
  • অরুচি, হাঁপানি, গেঁটেবাত ও প্লীহা বৃদ্ধিতে সজনে গাছের মূলের রস দুধসহ সেবনে আরাম হয়।
  • বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগে ২ গ্রাম সজনে পাতার রস বিট লবণ সহ বেশ উপকার পাওয়া যায়।
  • কৃমির উপদ্রপে সজনের মূল ছালের রস বেশ উপকারী। ২ চা চামচ করে সকালে বিকালে সেব্য।
  • কথিত আছে কুকুরের বিষ নষ্ট করে এ সজিনা পাতা।
  • ইনফ্লুয়েঞ্জা ও সর্দিতে বেশ উপকারী এই সজনে পাতা। সজনে পাতার রস ও ফলের রস ২ চা চামচ করে সকালে ও বিকালে খেতে হবে।
  • সজনে ডাঁটা  নিয়মিত খেলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। এবং
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে সজনে পাতা।

রূপচর্চায় সজিনা পাতার ব্যবহারঃ

সজনেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যার কারণে বয়সের ছাপ, বলিরেখা, ব্রণ ত্বকের অসমতার, চর্মরোগ ও ফাংগাল ইনফেকশন বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। বর্তমানে রূপচর্চায় সজনে পাতার তৈরি বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যায় এবং উন্নত বিশ্বে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বা ব্যবহার রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো মরিঙ্গা অয়েল, মরিঙ্গা জেল, মরিঙ্গা সুদিং জেল ও পাউডার রূপচর্চায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

সতর্কতাঃ

এতক্ষণ আমরা জেনেছি সজনে গাছের উপকারী গুণ গুলো। যদিও সজনী গাছ উপকারী তারপরেও প্রত্যেকটা ব্যক্তির বডি মেটাবলিজম আলাদা  তাই একজন অভিজ্ঞ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা উচিত।

প্রয়োজনীয় লেখাসমূহঃ

Leave a Comment

three × four =